Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

সিটিজেন চার্টারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ-

 

(১)জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস পালনঃ-  মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, শহীদ দিবস, মে দিবস, বাংলা নববর্ষ, হজ্জ ও  ওমরা , আশুরা, শবে মেরাজ, শবে বরাত, শবে কদর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুষ্ঠান, ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) কর্মসূচী উদযাপন,রমযানের কর্মসূচী পালন, তাফসীর মাহফিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক ও হিফজ প্রতিযোগীতা পরিচালনা, যুব ও মহিলা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন, জাতীয় শোক দিবস, জতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস পালন (শিশু দিবস), ইসলামী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দায়িত্ব পালন  অন্যতম।

 

(২) হজ্ব ব্যবস্থাপনাঃসরকারী ব্যবস্থাপনায় হজ্জ প্যাকেজ ঘোষণা অনুযায়ী অত্র কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় হাজী সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের স্বার্থে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত আবেদন ফরম ও নিয়মাবলী সম্ভাব্য হজ্জযাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সম্ভাব্য হজ্জযাত্রীদের মধ্যে সরকারী সুযোগ সুবিধাদি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া হজ্জ যাত্রীদের যাবতীয় সেবা প্রদান, হজ্জ সংক্রান্ত তথ্যাদি অবগত করন এবং হজ্জ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়িত করা হয়।

 

(৩) সরকারী যাকাত ফান্ডঃসরকার দেশের দুঃস্থ ও অসহায়দের কল্যাণার্থে ১৯৮২ সালে যাকাত বোর্ড গঠন করেন। যাকাত বোর্ডের আওতায় যাকাত আদায়ের কর্মসূচী পালন করা হয়ে থাকে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে দেশের খ্যাতিমান আলেম ওলামাদের সমন্বয়ে যাকাত বোর্ড গঠিত। সরকারী যাকাত তহবিলে সংগৃহীত অর্থ  ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাতে ব্যয় হয়ে থাকে। দুঃস্থ  ও অসহায়দের কল্যাণে যাকাত বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যাকাত ফান্ডের অর্থে সেলাই মেশিন, শিক্ষা উপকরন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, রিক্সা, ভ্যান, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল, গৃহ নির্মাণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় অসহায় দুঃস্থদের পূনর্বাসনে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। জেলা প্রশাসক ও জেলা যাকাত কমিটির সভাপতির মাধ্যমে যাকাত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। দুঃস্থদেরকে নির্ধারিত ফরম ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে আবেদন পত্র  সংগ্রহ পূর্বক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

 

(৪) জেলা চাঁদ দেখা কমিটিঃ  চন্দ্র মাসের সঠিক হিসাব নিরুপন এবং ধর্মীয় দিবস ও সরকারী  ছুটি সমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য চাঁদ দেখা কমিটির মিটিং গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সভাপতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কমিটির সদস্য সচিব। এ সভার আয়োজন ও চাঁদ দেখার সংবাদ প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে অবহিত করার দায়িত্ব পালন এ কমিটির অন্যতম কাজ।

 

 

(৫) ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণাসহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ইসলামী জ্ঞান বিকাশের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে লাইব্রেরী কার্যক্রম চালু রয়েছে। জেলা পাঠাগারে ধর্মীয় ইসলামী জ্ঞান বিকাশে বহু দূর্লভ বই রয়েছে। জ্ঞান পিপাসু পাঠকদের জন্য এ পাঠাগারটি ইতোমধ্যেই সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। সর্বমহলে এ পাঠাগারের কার্যক্রম সমাদৃত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারী অর্থে পরিচালিত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে ইতোমধ্যে নন্দিত হয়েছে। জ্ঞান পিপাসু, গবেষক ও আগ্রহী পাঠকগণ এ পাঠাগারে এসে জ্ঞান অর্জন এবং গবেষণা কার্য সম্পাদন  করতে পারেন।

(৬) মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমঃ‘‘মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’’ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি অন্যতম প্রকল্প। এ প্রকল্পে (ক) প্রাক-প্রাথমিক (খ) সহজ কুরআন শিক্ষা ও (গ) বয়ষ্ক শিক্ষা কেন্দ্রে পাঠদান করা হয়। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৪-৫ বছর বয়সের শিশুদের বাংলা, অংক, প্রয়োজনীয় দোয়াসহ আরবী অক্ষর শিখানো হয়। প্রতি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০জন।  সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদেরকে দোয়া, মাসআলা-মাসায়েলসহ কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া হয় এবং বয়ষ্ক শিক্ষা কেন্দ্রে নিরক্ষর বয়স্কদেরকে বাংলা, ইংরেজী, অংক ও মাসআলা-মাসায়েলসহ কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া হয়। এছাড়া প্রতি উপজেলায় একটি করে রিসোর্স সেন্টার (লাইব্রেরী) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

(৭) মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পঃমসজিদে নববীর আলোকে বাংলাদেশের মসজিদ সমূহকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং মসজিদসমূহকে ইসলামিক জ্ঞান চর্চার ও প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ১৯৭৯-৮০ অর্থ বছর থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন মসজিদে লক্ষ লক্ষ টাকার বই ও আসবাবপত্র বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ সকল পাঠাগার স্থাপনের ফলে জেলায় হাজার হাজার পাঠক সৃষ্টি হয়েছে ও সৎ মানুষ তৈরী হচ্ছে এবং নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন ঘটছে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত লাইব্রেরীয়ানগণ উপজেলায় স্থাপিত মসজিদ পাঠাগার সমূহ নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে থাকেন। জেলার যেকোন মসজিদ কর্তৃপক্ষ আগ্রহী  হলে  বিনামূল্যে প্রাপ্ত নির্ধারিত ফরম পূরণ পূর্বক অত্র কার্যালয় থেকে পুস্তক সংগ্রহ করতে পারেন।

 

(৮) ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমঃমসজিদের ইমামদেরকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করণের লক্ষ্যে ইসলামিয়াত, গণশিক্ষা, পরিবার কল্যাণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, কৃষি ও বনায়ন, পশুপাখি পালন ও মৎস্য চাষ বিষয়ে ৪৫দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। নোয়াখালী জেলার ইমামগণ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণার্থী ইমামদেরকে জেলা কোটা অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়।

 

(৯) মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করণ প্রকল্পঃUNFPA এর অর্থায়নে পরিচালিত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে বিভিন্ন পেশাজীবি, ইমাম, ম্যারেজ রেজিষ্টার এবং মহিলাদেরকে প্রজনন স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ মাতৃত্ব, আদর্শ পরিবার গঠন, পরিবার কল্যাণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ দূষণ রোধ, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহ করণ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করে মানব সম্পদকে অধিকতর কার্যকর করা এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

 

(১০) ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টঃ  সরকার বাংলাদেশের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যানার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যান ট্রাষ্ট আইন ২০০১ পাস করেছে। উক্ত ট্রাষ্টের আওতায় নোয়াখালী জেলার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরকে ট্রাষ্টের আওতাভূক্তির লক্ষ্যে জেলায় ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যান ট্রাষ্টের সদস্যভূক্তি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাসিক চাঁদা ১০/- টাকা প্রদান করে এ পর্যন্ত জেলার ১৩০ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিন ট্রাষ্টের সদস্যভূক্ত হয়েছেন। জেলার সম্মানিত সকল ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে অথবা উপজেলা পর্যায়ের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে নিয়োজিত ফিল্ড সুপারভাইজারদের সাথে যোগাযোগ করে সদস্য হতে পারবেন।  দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ সদস্যগণকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।  নির্ধারিত ফরমে ঋণ ও সাহায্যের জন্য আবেদন করতে হয়।

(১১) ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশনা কার্যক্রমঃ   ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইসলামী সাহিত্য, আল কুরআন এর তফসীর গ্রন্থসমূহ, হাদীস গ্রন্থসহ প্রায় ৪,০০০ টাইটেলের বই প্রকাশ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী আইন, তাফসীর, দর্শন, মনীষীদের জীবনী, ইসলামী অর্থনীতি, নারী অধিকার, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ইসলামী বিশ্বকোষ, ফতওয়া ইত্যাদি। এ সকল বই জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিক্রয় ও বিপনন হয়ে থাকে। সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিক পুস্তক ক্রয়ে কোন টেন্ডার  বা দরপত্রের প্রয়োজন হয় না।

(১২) ইসলামিক মিশন কার্যক্রমঃ  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিকিৎসা ভিত্তিক কর্মসূচী হলো ইসলামিক মিশন কার্যক্রম। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ৩৩টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঔষধসহ চিকিৎসা সেবাদান, সেলাই প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা ও ক্ষুদ্র  ঋণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

(১৩)  মসজিদ জরিপঃ  জেলার প্রকৃত মসজিদ কত এর সঠিক পরিসংখ্যান জানা একান্ত আবশ্যক। এরই প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সম্পুর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ফিল্ড সুপারভাইজার, কেয়ারটেকার, শিক্ষক, মসজিদ পাঠাগার লাইব্রেরীয়ান এবং ধর্মীয় নেত্রীবৃন্দের সহয়োগিতায় কক্সবাজার জেলার মসজিদ জরিপ করা হয়েছে। এ জেলায় মোট  ৪,১২৭টি  মসজিদ রয়েছে।

 

(১৪) অন্যান্য কার্যক্রমঃ  যৌতুক ও মাদকের কুফল, বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করণ, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে সহযোগিতা, স্যানিটেশন, নারী ও শিশু নির্যাতন পাচার প্রতিরোধ, এইচ আই ভি এইডস, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কুফল বিষয়ে পুস্তিকা ও লিফলেট তৈরী ও বিতরণ,  ধুমপান অনাসক্ত করণ চেষ্টা,  এনআইডি বাস্তবায়নে সহযোগিতা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রজনন স্বাস্থ্য,  নারী অধিকার সংরক্ষণ, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ধর্মীয় নেতার মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা হয়।